পাহাড়টাকে হাত বুলিয়ে লালদিঘির ঐ পার
এগিয়ে দেখি জোনাকিদের বসেছে দরবার।
আমায় দেখে কলকলিয়ে দিঘির কালো জল বললো,
এসো, আমরা সবাই না-ঘুমানোর দল-
***** ***** *****
বাঁশবাগানের আধখানা চাঁদ
থাকবে ঝুলে একা।
ঝোপে ঝাড়ে বাতির মতো
জোনাক যাবে দেখা।
কবিতাংশ দুটিতে পল্লি-প্রকৃতির বিচিত্র রূপ ফুটে উঠেছে।
প্রকৃতির বিচিত্র রূপ পরিলক্ষিত হয় এই পৃথিবীতে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষ আত্মীয়তার সম্পর্ক অনুভব করে। প্রকৃতি নানাভাবে মানুষের মনকে প্রভাবিত করে।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে কবি পরম মমতায় পল্লি-প্রকৃতির রূপ বর্ণনা করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে লালদিঘির পাড় ঘেঁষেই পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। তার একটু সামনে এগুলেই থোকায় থোকায় জোনাক পোকা দেখা যায়। আর দিঘির কালো জল যেন কলকলিয়ে কবির সঙ্গে কথা বলে। উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের কবিতাংশেও পল্লি-প্রকৃতির রূপ ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যায় বাঁশবাগান, তার মাঝখান দিয়ে আধখানা চাঁদ ঝুলে রয়েছে। ঝোপঝাড়ে জোনাকিরা আলো জ্বেলে ঘুরে বেড়ায়।
নারকেলের ঐ লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল
ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে ঠান্ডা ও গোলগাল।
ছিটকিনিটা আস্তে খুলে পেরিয়ে গেলাম ঘর
ঝিমধরা এই মস্ত শহর কাঁপছিলো থরথর।
মিনারটাকে দেখছি যেন দাঁড়িয়ে আছেন কেউ,
পাথরঘাটার গির্জেটা কি লাল পাথরের ঢেউ?
দরগাতলা পার হয়ে যেই মোড় ফিরেছি বাঁয়
কোথেকে এক উটকো পাহাড় ডাক দিলো আয় আয়।
পাহাড়টাকে হাত বুলিয়ে লালদিঘির ঐ পাড়
এগিয়ে দেখি জোনাকিদের বসেছে দরবার।
আমায় দেখে কলকলিয়ে দিঘির কালো জল
বললো, এসো, আমরা সবাই না-ঘুমানোর দল-
পকেট থেকে খোলো তোমার পদ্য লেখার ভাঁজ
রক্তজবার ঝোঁপের কাছে কাব্য হবে আজ।
দিঘির কথায় উঠল হেসে ফুল পাখিরা সব
কাব্য হবে, কাব্য কবে-জুড়লো কলরব।
কী আর করি পকেট থেকে খুলে ছড়ার বই
পাখির কাছে, ফুলের কাছে মনের কথা কই।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?